কয়টা বাজে জানি
না, আসলে জানার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ও নেই। শুয়ে আছি, কি দরকার ঘুমটা নষ্ট করার। এমনতো
না যে প্রচুর কাজ আছে, উঠতেই হবে। আসলে কাজ আছে কিনা জানি ও না, ঘরের টুক-টাক কাজ থাকতে
পারে। আসলে যেটা জানি না ঐটা করা হয়তো জরুরি ও না, আবার কাজটা আমারই করতে হবে তা ও
না। কেউ না কেউ করবে। উঠে কি হবে? ধূর, ঘুমাই।
আমার নাম নীল।
বয়স বিশ-বাইশ কিছু একটা হবে, হিসাব করার প্রয়োজন বোধ করি না। কেউ বয়স জানতে চাইলে বিশ-একুশ-বাইশ
কিছু একটা বলে দেই, আবার কেউ জন্মসাল জানতে চাইলে বলে দেই একটা, তারা নিজ দায়িত্বে
হিসাব করে নেয়। আমি ভার্সিটিতে পড়ি, এই বয়সটা একটু আজব। এই বয়সে কত তরুণ-তরুণীর কত
কিছু ভালো লাগে, কত কিছু করে, জীবনে তাদের কত আশা, জীবনে কত রং। আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা
উল্টো, জীবনটা আমার কাছে পানসে। এমন না যে আমি কিছু করি না অথবা বন্ধু-বান্ধব নেই।
দিনশেষে কোন কিছুতেই বিশাল তৃপ্তি বা আনন্দ খুব একটা অনুভব করি না, করলেও ক্ষীণ। ঠেকায়
না পড়লে কোন কাজ ও করি না, আলসেমি লাগে। আর কোন কাজ করে লাভটা কি যদি সেখানে আমার কোন
ব্যক্তিগত স্বার্থ না থাকে? মানুষ যা করে সাধারণত নিজ স্বার্থেই করে, স্বার্থ ছাড়া
কারো ঠেকা নাই কাজ করার। ধরি চাকুরিজীবীদের কথাই। তাদের টাকা লাগবে দেখেই তো চাকরি
করে নাকি? পেট চালানো-পরিবার চালানো তো লাগবে। এখন আপনি হয়তো বলতে পারেন যে, পরিবার
চালানো কি নিজ স্বার্থ দেখা হল নাকি। অবশ্যই স্বার্থ আছে এখানে। নিজের বংশ-বৃদ্ধি,
নিজের সন্তানকে বড় করা, সন্তান পড়া-শোনা শেষ করে চাকুরি শুরু করলে তার উপার্জনে শেষ
জীবনটা শান্তিতে পার করা। এখন এটাকে স্বার্থ মনে না করলে আমার কিছু করার নেই, আমার
দুনিয়াতে আমি যা মনে করি তাই সঠিক।
"এই নীল!
উঠ ঘুম থেকে! কয়টা বাজে জানস?"
এই যে দিল আমার
চিন্তায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে, কি শান্তিতে ঘুমাচ্ছিলাম। চিৎকার আর কেউ নয়, আমার দিদি করছে।
চোখটা খুললাম,
বালিশের আশ-পাশটা হাতড়ে মোবাইলটা খুঁজে নিয়ে হাতে নিলাম। বাজে বেলা সাড়ে বারোটা, মাত্র
তো সকাল হল। দরজার দিকে তাকাতে দেখি, আঁচল দিদি এক হাতে চা নিয়ে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে
আছে। বুঝলাম না, চা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকারই বা কি দরকার, আর চিৎকার করে আমার ঘুমটা নষ্ট
করারই বা কি দরকার। আমার ঘুম থেকে উঠার সময় হলে আমি উঠবো, চা খেতে ইচ্ছা হলে চা বানাতে
বলবো। আজব তো! আর কাজ-কর্ম নাই নাকি দিদির?
"কিরে,
শব্দ করিস না কেন? ঘুম কাটে নাই নাকি এখন ও? ভার্সিটি যাবি না নাকি?"
"ক্লাস
নাই, ভার্সিটি গিয়ে কাজ কি?"
"ওমা,
ক্লাস নাই তো কি হয়েছে? বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিবি, ঘুরে বেড়াবি, এটাই তো সময়।"
"ক্যাম্পাস
অনেক দূরে।"
"ফাতরামি?
শাহবাগ এখান থেকে দূরে?"
জবাব দিলাম
না। কথা বাড়ালে কথা বাড়ে।
"চা খা,
চা খেয়ে কিছু সদাই কিনে নিয়ে আয়। লিস্ট দিয়ে যাচ্ছি।"
দিদি টেবিলে
চায়ের কাপটা রেখে চলে গেল। আমি এবার ও কিছু বললাম না। বাজারে যাবার তো প্রশ্নই উঠে
না, চা টা খেয়ে আবার শুয়ে পড়া যেতে পারে। কিন্তু একটু পরেই তো আবার সদাই আনার জন্য
চিৎকার শুরু করবে। পারব না আমি যেতে, নাকিবকে পাঠালে ও তো পারে। হতচ্ছাড়াটা কই?
গেল আমার চা,
লাফ দিয়ে উঠে বসলাম। এত কিছু ভাবতে ভাবতে চা যে আমার ঠান্ডা হয়ে গেল। এক চুমুক দিয়েই
গেল মেজাজটা খারাপ হয়ে। চা ও হয়ে গেছে আমার জীবনের মতো ঠান্ডা, পানসে। আমার নাম নীল,
আমি একজন #ফেকার।
[[অয়ন আল মামুন]]
No comments:
Post a Comment